বিস্তারিত

  • হোম
  • |
  • সুইজারল্যান্ড বৈধতা দিলো আত্মহত্যা করার যন্ত্র, মারা যেতে পারবেন ১ মিনিটেরও কম সময়ে, হবেনা কোনো কষ্ট
thumb
সুইজারল্যান্ড বৈধতা দিলো আত্মহত্যা করার যন্ত্র, মারা যেতে পারবেন ১ মিনিটেরও কম সময়ে, হবেনা কোনো কষ্ট
  • 12/9/2021 8:37:21 PM
  • মো: মোস্তাফিজার রহমান
  • 0 - Comments

সারকো’ কফিন আকৃতির যন্ত্রটিকে আত্মহত্যা করতে এ মিনিটেরও কম সময় লাগবে, হবে না কোনো ব্যথা, পাবেন না কোনো কষ্ট, আত্মহত্যা করতে পারবেন বেদনাবিহীন ভাবে  অনায়াস ও শান্তিতে।

 

সুইজারল্যান্ডে ঠিক এমন একটি আত্মহত্যার যন্ত্রের আইনি ভাবে গতকাল ৮-ই  ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটিতে।  যন্ত্রেটি  কৃত্রিম ভাবে তার ভেতরে থাকা  অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড  এর  পরিমাণ  কমিয়ে দেবে তাও নাকি আবার ১ মিনিট সময়েরও কম সময়ে  এবং এভাবেই  মধ্যে মৃত্যু ডেকে আনতে হবে আত্মহত্যাকারীকে।

 

‘এগজিট ইন্টারন্যাশনাল’  নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আত্মহত্যার  জন্য এই  যন্ত্রটি তৈরি করেছে।  ‘ডক্টর ডেথ’ নামে পরিচিত  এগজিট ইন্টারন্যাশনাল নামের সংস্থাটির  অধিকর্তা ফিলিপ নিটশে আত্মহত্যা করার এই যন্ত্রের উদ্ভাবনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যন্ত্রটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটি  জানায় যে  বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি করা যাবে  ভিতর থেকেও নিয়ন্ত্রন।

 

অর্থাৎ মৃত্যুর প্রত্যাশী বা আত্মহত্যাকারী  ব্যক্তি নিজেও যন্ত্রেটির  ভিতর থেকে   চালাতে পারবেন বা করতে পারবেন নিয়ন্ত্রণ। তবে  আত্মহত্যাকারী  ব্যাক্তি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পাড়ায়  রয়েছে মূল সমস্যা।

 

মরণেচ্ছু বা আত্মহত্যা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে এ ক্ষেত্রে সাধারণত বেশিরভাগ সময়েই  দেখা যায় যে তারা এই পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে অচেতন হয়ে পড়েন বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যার ফলে পেশিশক্তি বা শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে এসময় যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণ করা বা অন্য কোনও কাজ করার মতো ক্ষমতা বা  পরিস্থিতি থাকে না অধিকাংশ মরণেচ্ছু বা আত্মহত্যাকারীর।

 

তবে ‘এগজিট ইন্টারন্যাশনাল’ নামের এই সংস্থার দাবি যে, তারা ওই সমস্যারও সমাধান বের করেছেন। এমন পরিস্থিতি হতে পারে একথা মাথায় রেখে তারা আত্মহত্যাকারী যেন  শুধু তার চোখের পাপড়ি নড়াচাড়া করেই যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তার ব্যবস্থা রেখেছেন এভাবে যে, আত্মহত্যাকারীর চোখের পাতার    সামান্য পরিবর্তন আঁচ করেই যন্ত্রটিতে  সঙ্কেত পাঠাতে পারবেন এবং যন্ত্রটি তা ভিজতে পারবে।

 

সংস্থাটি  জানিয়েছে যে , আত্মহত্যাকারী বা যে কেউ  যেখানে ইচ্ছা  বা  প্রয়োজন সেখানেই তিনি যন্ত্রটি বহন করে নিয়ে যেতে পারবেন।  সারকো নামের এই যন্ত্রটিকে মূল মেশিন থেকে আলাদা করলেই  অনেকটা কফিনের মতো দেখা যায় এটিকে। যেখানে একবার  শুয়ে পড়লেই শেষ হয়ে যাবে সব।

 

সুইৎজারল্যান্ডে বিশেষ ক্ষেত্রে  কাউকে আত্মহত্যা করতে আত্মহত্যাকারীকে সহায়তা প্রদান করা দেশটিতে আইনি ভাবে বৈধতা দেয়া হয়েছে অনেক আগেই।সেই সূত্রে জানা যায় শুধু গত বছর এই প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ১,৩০০ জন সাহায্য নিয়েছেন। তবে যন্ত্রটি এতদিন দেশটিতে বৈধতা না পেলেও এ বার আইনি বৈধতা  পেয়েছে ‘সারকো’ নামের আত্মহত্যায় সাহায্যকারী এই যন্ত্রটি।

 

‘ডক্টর ডেথ’ উপাধিপ্রাপ্ত ওই  চিকিৎসক জানিয়েছেন যে তারা এখন পর্যন্ত এই যন্ত্রের নির্মাণের পেছনে অনেক পরিমান অর্থ খরচ করলেও আশানুরূপ ফল পাননি, তবে তিনি  আশাবাদী যে খুব শিগ্রই তারা কাঙ্খিত ফলাফল পাবেন।

 

কিন্তু ইসলাম কি বলে আত্মহত্যার ব্যাপারে অথবা মৃত্যুর সময় কেমন কষ্ট হয় একজন ব্যাক্তির, আসুন একটু জেনে নেয়া যাক:

 

প্রথমত ইসলাম কোনোভাবেই আত্মহত্যাকে সমর্থন করে না, বরং ইসলামে আত্মহত্যা একটি জঘন্যতম অপরাধ এবং মহাপাপ পাপ। আত্মহত্যার একমাত্র  পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।

 

জীবনের কঠিন মুহূর্তে অনেকে আত্মহত্যা করার পথ বেছে নেন দুঃখ-দুর্দশা অথবা ব্যর্থতার গ্লানি থেকে, অন্যের কাছে মুখ দেখানোর লজ্জা থেকে মুক্তির জন্য । অথচ মহান রাব্বুল আলামিন  আল্লাহর ওপর ভরসা করে ও  ধৈর্য ধারণ করে  চললে এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে অনায়াসে বেঁচে থাকা সম্ভব।

 

মহান রাব্বুল আলামিন বলেন- ‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমালঙ্ঘন করে আত্মহত্যা করবে তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ (সূরা আন নিসা আয়াত-২৯,৩০)

 

এ আয়াত থেকে বুঝা যায় পরকালে আত্মহত্যাকারীর জন্য  কতই না কঠোর আজাবের ঘোষণা দেয়া হয়েছে  সুস্পষ্ট এই আয়াতে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন যে,

 

‘তোমরা নিজের হাতে নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না (সূরা বাকারা-১৯৫)।

পবিত্র কুরআনের এ আয়াতেও  ভয়াবহ পথ(আত্মহত্যা) থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 আত্মহত্যাকারী কে  এত বড় মহাপাপী বলে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বয়ং  মহানবী  (সা.) নিজেই  এমন কোনো আত্মহত্যাকারী  ব্যক্তির জানাজায় শরিক হননি।

 

রাসূল (সা.) একদা সাহাবীদেরকে বলেন, ‘ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে  এমন একজন  ব্যক্তি ছিল যে, ওই ব্যাক্তি যুদ্ধের ময়দানে আহত হয়ে ছটফট করতে লাগল এবং এমতাঅবস্থায় সে ছুরি দিয়ে নিজেই  তার নিজের হাত কাটল এবং অনেক রক্তপাতে মারা গেল।

আল্লাহতায়ালা এ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, আমার এ বান্দা নিজের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করে ফেলেছে এ কারণে আমি তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দিয়েছি (নাসাঈ)

অথচ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ যেখানে শহীদি মর্যাদাপূর্ণ।

 

পবিত্র কোরআন শরীফের বর্ণনায় মৃত্যুযন্ত্রণা যেমন হবে :

 

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। নিশ্চয়ই মৃত্যুর যন্ত্রণা অনেক কঠিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫১০)

 

পবিত্র কোরআন শরীফের চারটি আয়াতে মৃত্যুযন্ত্রণার কথা স্পষ্টভাবে  বলা হয়েছে, আয়াতগুলো হলো:

 

১. আল্লাহ বলেন, ‘মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যই আসবে। এটা হতে তোমরা অব্যাহতি চেয়ে এসেছ।’ (সুরা কাফ, আয়াত : ১৯)

 

২. আল্লাহ বলেন, ‘যদি তুমি দেখতে পেতে যখন অবিচারকারীরা মৃত্যুযন্ত্রণায় থাকবে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করো। তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অন্যায় বলতে ও তাঁর নিদর্শন সম্পর্কে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে। সে জন্য আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৯৩)

 

৩. মহান আল্লাহ তায়ালা  ইরশাদ করেছেন যে , ‘উপরন্তু কেন নয়—প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয় এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাকো।’ (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ৮৩-৮৪)

উল্লিখিত এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা  বুঝাইতে চেয়েছেন মানুষের অসহায়ত্বর কথা। আল্লাহ বলেছেন যে,  তোমরা তোমাদের  নিজেদের অবস্থা লক্ষ করো। যখন তোমাদের জীবন তোমাদের কণ্ঠনালিতে চলে আসে ও তোমাদের অবস্থা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়  অথচ তোমাদের আশেপাশে তখন  তোমাদের আপনজনরা থেকেও তারা তোমাদের কোনো উপকার করতে পারে না।

 

৪.  আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে এবং বলা হবে, কে তাকে রক্ষা করবে? তখন তার প্রত্যয় হবে যে এটা বিদায়ক্ষণ এবং পায়ের সঙ্গে পা জড়িয়ে যাবে। সেদিন তোমার প্রভুর কাছে সব কিছু প্রত্যানীত হবে।’ (সুরা কিয়ামা, আয়াত : ২৬-৩০)

এ আয়াতের মাদ্ধমে আল্লাহ আমাদের বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষ তার মৃত্যুযন্ত্রণা উপলদ্ধির মাদ্ধমে মৃত্যুর  পূর্বেই বুজতে পারবে যে তার মৃত্যু সমাগত এবং সে  বুঝতে পারবে যে তার পরবর্তী জীবনের পরিণাম কী হতে যাচ্ছে যা হবে।

 

 

অথচ উপরোক্ত যন্ত্রটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে  ব্যথা, বেদনাবিহীন ও অনায়াসে  আত্মহত্যা করা যাবে। যা কি না একজন মুমিন ব্যাক্তির পক্ষে  কখনোই বিশ্বাস করা  তার পক্ষে তার ধর্মকেই অবিশ্বাস করার সমান।

আপনার মন্তব্যঃ

একই ধরনের সংবাদ

আপনার জন্য