ঈদ উল-ফিতরের দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ সিডনির একটি মসজিদে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়েন। তার বক্তব্য চলাকালে প্রতিবাদ জানায় একদল মানুষ, যা দ্রুতই উত্তেজনায় রূপ নেয়।
শুক্রবার সিডনির শহরতলী ল্যাকেম্বার ইমাম আলী বিন আবি তালেব মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত এই মসজিদটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ঈদের নামাজের পর সেখানে মুসল্লিদের সঙ্গে দেখা করতে যান আলবানিজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।
গাজায় মিত্র ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আলবানিজ সরকারের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত কিছু প্রতিবাদকারী। তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাধা দেন, দুয়োধ্বনি করেন এবং ‘চলে যাও’ বলে স্লোগান দেন। এমনকি তাদের ‘গণহত্যার সমর্থনকারী’ বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই নেতা মসজিদে পৌঁছানোর প্রায় ১৫ মিনিট পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে এক নিরাপত্তাকর্মী একজন উত্ত্যক্তকারীকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরে সরিয়ে দেন। এ সময় এক আয়োজক জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ঈদের দিনের কথা মনে করিয়ে দেন।
আলবানিজ ও টনি বার্ক মসজিদ ত্যাগ করার সময়ও প্রতিবাদকারীরা চিৎকার করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের উদ্দেশে “তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত” বলেও স্লোগান দেওয়া হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আলবানিজের মধ্য বামপন্থি সরকার একদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি উদ্বেগ জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান করেছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের অনেকের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করেছে।
তবে ঘটনার পর আলবানিজ মসজিদ সফরকে “অবিশ্বাস্য রকমের ইতিবাচক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ভিড়ে কয়েকজনের আচরণকে সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। উপস্থিত মুসল্লিরাই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডি বিচে প্রাণঘাতী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনার পর প্রণীত আইনের আওতায় চলতি মাসে ইসলামপন্থি সংগঠন ‘হিজবুত তাহরির’ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তেও কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঈদের দিনের আনন্দের মাঝেও রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি চিত্র তুলে ধরেছে।



