এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বছরের মধ্যেই শেষ করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই দুই পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, প্রতিবছর ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই দুই পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণির ক্লাস শেষ করার পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধারা অনুসরণ করা হয়। আগে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি এবং এপ্রিলের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতো। তবে করোনা পরিস্থিতির পর থেকে সেই সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর অবস্থা যাচাই করতে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নকল ও অনিয়ম ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও জানানো হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ সম্ভব নয়। তিনি জানান, অতীতে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে যেভাবে নকল প্রতিরোধ করা গেছে, সেই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র সচিব ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।




